বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নে শিয়ালের কামড়ে বিভিন্ন বয়সের অন্তত ১৫ নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় দুটি গরু ও একটি ছাগলও আহত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।
শনিবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজীপাড়া ও বলদিপালান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বলদিপালান গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), তার ছেলে আতিকুর রহমান (১৮), একই গ্রামের নারগিস আক্তার (৩৭), মকবুল হোসেন (৬০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৬০) প্রমুখ।
জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি মুরগির খামারে কাজ করছিলেন। এ সময় একটি ক্ষিপ্ত শিয়াল এসে তার পায়ে কামড় দিয়ে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। পরে একই শিয়াল পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজনকে কামড় দেয়।
আতিকুর রহমান নামে আরেকজন জানান, শনিবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে একটি শিয়াল তার পায়ে কামড় দেয়।
এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, বাড়ির পাশের দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ শিয়াল আক্রমণ করে। তার চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
শারিক হোসেন নামে এক গ্রামবাসী জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিয়ালটি মানুষ ও গবাদিপশুকে কামড়াতে থাকে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী লাঠি হাতে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে শিয়ালটিকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে হত্যা করেন।
শিয়ালের আক্রমণের খবরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে কাজীপাড়া গ্রামে তরুণ-যুবকদের লাঠি হাতে পাহারা দিতে দেখা যায়। বিভিন্ন মোড়ে নারী-পুরুষকে সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রয়োজনে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের মানুষ একযোগে শিয়াল নিধনে নামবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ-এর ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ বলেন, মানুষের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে। খাদ্যের অভাবেই শিয়াল লোকালয়ে এসে আক্রমণাত্মক আচরণ করছে।
সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর মেডিকেল অফিসার জান্নাতুল মাওয়া বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তি ও গবাদিপশুকে দ্রুত জলাতঙ্ক (র্যাবিশ) ভ্যাকসিন দিতে হবে। আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে প্রতিষেধক নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক জানান, দুটি গ্রামের ৭-৮ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। আক্রান্তদের সদর হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।