সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন—এমন অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
এক যৌথ বিবৃতিতে বগুড়া প্রেসক্লাব–এর সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া–এর সভাপতি গনেশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ বলেন, “সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল, নীতিনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমূলক পেশা। এখানে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়ে অপকর্ম চালিয়ে পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
তারা বলেন, “এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিবৃতিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়— প্রকৃত সাংবাদিক ও ভুয়া পরিচয়ধারীদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে যথাযথ নিবন্ধন, নীতিমালা প্রণয়ন ও জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক নেতারা আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এরা সাংবাদিক নয়—পেশার নামে প্রতারক এবং প্রকৃত চাঁদাবাজ। গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম বরদাশত করা হবে না।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব ভুয়া ও কথিত সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
গণমাধ্যমের মর্যাদা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসনের আন্তরিক ও দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ।