ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ৮ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরী সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলের মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রোববার জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারীরা হতাহতদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে চিকিৎসক দল রয়েছে, হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার তৎপর রয়েছে।
মাজেন ডেভিড আডোম-এর মুখপাত্র জাকি হেলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইত শেমেশে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, বেইত শেমেশ শহরে আবাসিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
আমিরাতে ৩ জন নিহত, আহত ৫৮
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে ৩ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানো শুরু করলে ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হমলা চলবে।
রোববার টেলিভশনে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবো।’ তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে, শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাত বরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’
হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বহু জাহাজ আটকা
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত দেওয়া সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে।
প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর এই অঞ্চলটি যুদ্ধের কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী এবং এলএনজি উৎপাদনকারী বড় দেশ কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ট্যাঙ্কারগুলো রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা