নন্দীগ্রামে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত সরিষার হাট | Daily Chandni Bazar নন্দীগ্রামে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত সরিষার হাট | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৬ ০০:৪২
নন্দীগ্রামে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত সরিষার হাট
ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম, বগুড়া

নন্দীগ্রামে মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত সরিষার হাট

 
নন্দীগ্রাম উপজেলায় নতুনভাবে গড়ে ওঠা নন্দীগ্রাম সরিষার হাট এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চলতি রবি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। মৌসুমের শুরু থেকেই মঙ্গলবার হাটবার ছাড়াও প্রায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সরিষা কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে নতুন এই সরিষা হাট অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় ফলন হয়েছে আশানুরূপ। এতে উৎপাদন ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
নন্দীগ্রাম সরিষার হাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান শাহীন জানান, প্রতি মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই এখানে সরিষা কেনাবেচা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও কৃষক ও বেপারিরা সরিষা নিয়ে আসছেন।
বর্তমানে মানভেদে সরিষা ২৫শ থেকে ২৮শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বেপারি রেজাউল করিম বলেন, হাটটি কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহন খরচ কম লাগে। একদিনেই ৬০ মণ সরিষা কিনেছি। আরেক বেপারি রাজু আহমেদ জানান, তিনি প্রায় ১০০ মণ সরিষা কিনেছেন এবং দাম আরও বাড়লে পরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
 
সরিষা চাষি আকবর আলী বলেন, তিনি ৮ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। এখন কিছু বিক্রি করছি, বাকিটা রেখে পরে বিক্রি করলে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে বলেছেন তিনি। কৃষকদের মতে, ধান কাটার পর জমি ফাঁকা না রেখে সরিষা আবাদ করলে অতিরিক্ত আয় হয়। পাশাপাশি সরিষা চাষ জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। অনেক কৃষক এখন সরিষার পাশাপাশি গম, মসুর ডাল ও ভুট্টার আবাদ করছেন, যা গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
 
স্থানীয় রিধইল গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, হাটটি নতুন হলেও অল্প সময়েই বড় সরিষার বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে এটি আঞ্চলিক পর্যায়ের অন্যতম বড় কৃষিপণ্য বাজারে রূপ নিতে পারে।
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা উন্নত বীজ ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।
 
এদিকে দূরদূরান্তর থেকে আশা ক্রেতা ও বিক্রেতারা সহ নন্দীগ্রাম সরিষার হাটের ইজারাদার মেহেদী হাসান শাহীন জানান, সরিষার এই জমজমাট হাটে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জায়গা সংকট। বগুড়া–নাটোর মহাসড়কের নন্দীগ্রাম সীমান্ত এলাকায় রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে হাটের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সময় রাস্তার পাশেই সরিষা বোঝাই যানবাহন দাঁড় করিয়ে কেনাবেচা করতে হচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র ভোগান্তি।
 
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা গেলে নন্দীগ্রামের সরিষার হাট কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
 
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা রুহুল আজম জানান, আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।