প্রকাশিত : ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৭:২২
রায়গঞ্জে ১৮ মাস পর আ.লীগ কার্যালয় ঘিরে বাঁশের বেড়া, "পাবলিক টয়লেট" বিতর্কে নতুন মোড়
রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি ঘিরে এবার নেওয়া হয়েছে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ। কার্যালয়ের সামনে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করে উন্মুক্ত প্রসাব পায়খানা বন্ধের চেষ্টা করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার সকালে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, জায়গাটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের সামনের অংশে লোকজন প্রকাশ্যে প্রসাব–পায়খানা করায় পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রামাণিকপাড়া এলাকার ময়নাল প্রামাণিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম (ট্রাইভার) নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ বেড়া নির্মাণ করেন। তিনি জানান, শৈশব থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতি তার আবেগ রয়েছে, যদিও তিনি কোনো পদে নেই। দলীয় কার্যালয়ের সামনে এমন অস্বস্তিকর অবস্থা দেখে তিনি বিব্রত বোধ করতেন। তাই নিজ খরচে বাঁশের বেড়া দিয়ে জায়গাটি সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে সেখানে ফুলগাছ লাগিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদসূচক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কার্যালয়টিকে ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে প্রকাশ্যে প্রসাব–পায়খানা করতে শুরু করেন। বিষয়টি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের অঘোষিত বাস্তবতায় পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান এশা বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খোলার খবরের মধ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে নন এবং কারা এ কাজ করেছেন তা খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।
এদিকে, রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কোনো পক্ষ অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্থানকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে এখন সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।