বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান এলাকায় একটি আবাসিক বোর্ডিংয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক নারী ও এক খদ্দেরসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা ১১টার দিকে শিবগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাস্থান ইসলামী ব্যাংক সংলগ্ন সাখাওয়াত ম্যানশন মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘শাহ সুলতান আবাসিক বোর্ডিং’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ ছিল। বোর্ডিংটি ভাড়া নিয়ে উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের সেকেন্দ্রাবাদ গ্রামের চাঁন মিয়া পরিচালনা করতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঐ বোর্ডিংয়ে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতো। বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নজরে এলে তারা সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন নারীর উপস্থিতি টের পান। এ সময় বোর্ডিংয়ের একটি কক্ষের জানালা কেটে তৈরি করা গোপন পথ দিয়ে কয়েকজনকে পালিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে বোর্ডিং পরিচালকের বাগ্বিতণ্ডাও হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি শিবগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান শাহিনের নজরে এলে তিনি অভিযানের নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার এসআই রাজিব ও এসআই হোসেন আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বোর্ডিংটিতে অভিযান চালায়। এ সময় পুরো ভবন ঘেরাও করে তল্লাশি চালিয়ে এক নারী, এক খদ্দের ও বোর্ডিংয়ের পরিচালক চাঁন মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাস্থান একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা। পীর-আউলিয়ার নামে এমন কর্মকাণ্ড চলা দুঃখজনক। তারা এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, মহাস্থানগড়ের পবিত্র পরিবেশ রক্ষায় মাদক, দেহব্যবসাসহ সব ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত চাঁন মিয়া আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী এ ধরনের অভিযানের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।