জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এবারও বসেছে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার মেলা। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে মেলায় গিয়ে দেখাযায়, মাঠজুড়ে ছুটে চলেছে লাল, সাদা ও বিভিন্ন রঙের ঘোড়া। ধুলো উড়িয়ে সওয়ারিরা দেখাচ্ছেন ক্ষিপ্রগতি ও বুদ্ধিমত্তার কেরামতি। চারদিকে হাজারো মানুষের ভিড় আর মাঝেমধ্যে শোনা যাচ্ছে ঘোড়ার ডাক।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৫১৯ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে গোপীনাথপুরের এই মেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাহারি নাম ও জাতের ঘোড়াই এখন মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলা প্রাঙ্গণে পা রাখলেই শোনা যায় পঙ্খিরাজ, বাহাদুর, বিজলি, কিরণমালা, বাংলার রানী কিংবা ভারতীয় ‘তাজী’ এমন গালভরা নামের ঘোড়ার ডাক। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ঘোড়াগুলোকে সাজানো হয়েছে বাহারি সাজে। দুলকি চালে দৌড় আর বুদ্ধিমত্তা দেখে ক্রেতারা পাশের খোলা মাঠে ঘোড়া দৌড় করিয়ে পরখ করে নিচ্ছেন। মানভেদে ঘোড়ার দাম হাঁকা হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
কথিত আছে, প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে নবাব আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এ এলাকায় ভ্রমণকালে এক সাধকের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে গোপীনাথপুর ও গোপালপুর মৌজার জমি দেবোত্তর হিসেবে দান করেন। সেই সময় থেকেই দোলযাত্রা উপলক্ষে শুরু হওয়া এই মেলা আজও ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। স্বাধীনতার আগে এই মেলায় নেপাল, ভুটান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকেও উন্নত জাতের ঘোড়া আসত বলে জানা যায়।
মাসব্যাপী এই মেলার প্রথম ১০ দিন চলে পশুর হাট। ঘোড়ার পাশাপাশি গরু, মহিষ ও ভেড়াও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঠ ও প্লাস্টিকের আসবাব, ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং মিষ্টির দোকানও বসেছে। ২ থেকে ৪ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি এ মেলার পুরোনো ঐতিহ্য। তবে রমজান মাস চলায় এবার সার্কাস ও যাত্রাপালার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মেলা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, উত্তরবঙ্গের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ মেলা।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, মেলায় সাদা পোশাকসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।