১৮ ঘণ্টা পর সচলের পথে রেলপথ, আহত অন্তত ৬৬; সিগন্যাল অমান্য নিয়ে তদন্ত | Daily Chandni Bazar ১৮ ঘণ্টা পর সচলের পথে রেলপথ, আহত অন্তত ৬৬; সিগন্যাল অমান্য নিয়ে তদন্ত | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৬ ০০:৩৯
১৮ ঘণ্টা পর সচলের পথে রেলপথ, আহত অন্তত ৬৬; সিগন্যাল অমান্য নিয়ে তদন্ত
সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত
আদমদীঘি বগুড়া সংবাদদাতাঃ

১৮ ঘণ্টা পর সচলের পথে রেলপথ, আহত অন্তত ৬৬; সিগন্যাল অমান্য নিয়ে তদন্ত

বগুড়ার সান্তাহার জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ পুনরায় সচলের পথে রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো রেললাইনের পাশ থেকে সরিয়ে মেরামত কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত কাজ শেষ করে অল্প সময়ের মধ্যেই এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।

দুর্ঘটনা ও হতাহত

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার অতিক্রম করার পরই এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও পরে আহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। অনেক যাত্রী নওগাঁ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন।

সিগন্যাল অমান্যের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা ও সতর্ক সংকেত দেওয়া ছিল। তবে ট্রেনটির চালক এসব সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে প্রবেশ করায় বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ের কর্মীরাও জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল দেওয়া থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও তদন্ত

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহাম্মেদ হোসেন মাসুম বলেন, “লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে।”

১৮ ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল যোগাযোগ

দুর্ঘটনার কারণে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ প্রায় ১৮ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এতে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি

ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অনেক যাত্রীকে মালামাল নিয়ে হেঁটে দুর্ঘটনাস্থল পার হতে হয়েছে এবং পরে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।

সচল হওয়ার পথে

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান জানান, লাইন সচল হওয়ার পর প্রথম ট্রেন হিসেবে সীমান্ত এক্সপ্রেস চলাচল করবে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত ট্রেন চলাচল শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ মেরামতের কাজ আরও কিছু সময় চলবে।

 সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিগন্যাল অমান্য, অতিরিক্ত গতি, মেরামতাধীন লাইন এবং অতিরিক্ত যাত্রী—এই কয়েকটি কারণ মিলেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।