সলঙ্গায় এক গ্রামে এখনও টিকে আছে একমাত্র কাঠের ঘানি | Daily Chandni Bazar সলঙ্গায় এক গ্রামে এখনও টিকে আছে একমাত্র কাঠের ঘানি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০১:৫৭
সলঙ্গায় এক গ্রামে এখনও টিকে আছে একমাত্র কাঠের ঘানি
হারিয়ে যাচ্ছে বংশীয় পেশা......
জি.এম স্বপ্না,সলঙ্গা

সলঙ্গায় এক গ্রামে এখনও টিকে আছে একমাত্র কাঠের ঘানি

আধুনিক যন্ত্রচালিত তেলের কলের ভীড়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানিতে সরিষা ভাঙ্গানোর পেশা।তবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামে এখনও বংশীয় পেশা ধরে রেখেছেন কলু (খুলু) সম্প্রদায়ের একজন মানুষ আব্দুল আজিজ প্রামাণিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বনবাড়িয়া গ্রামে এক সময় কলু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার কাঠের ঘানি দিয়ে সরিষা ভেঙ্গে তেল উৎপাদনের কাজ করতেন।তখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ঘানিগাছ দেখা যেত।কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে।বর্তমানে পুরো গ্রামে একমাত্র আব্দুল আজিজ প্রামাণিকের বাড়িতেই রয়েছে কাঠের ঘানি।
প্রায় সত্তর বছর বয়সী আব্দুল আজিজ প্রামাণিক নিজের বাড়ির একটি টিনের দোচালা ঘরে কাঠের ঘানিগাছ বসিয়ে সরিষা ভেঙে তেল উৎপাদন করছেন। আগে গরু দিয়ে ঘানির জোয়াল ঘোরানো হলেও এখন বেশিরভাগ সময় ঘোড়া দিয়ে তা চালানো হয়।প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যরাও জোয়াল টেনে ঘানি ঘোরাতে সহায়তা করেন।
আব্দুল আজিজের স্ত্রী রহিমা খাতুন জানান,বিয়ের পর থেকেই তিনি এই ঘানিগাছ দেখছেন।প্রায় চার দশক ধরে স্বামীর সঙ্গে বংশীয় এই পেশায় যুক্ত আছেন।প্রতি সপ্তাহে নিজেদের কেনা সরিষা ভেঙে দুই থেকে তিন ঘানি তেল উৎপাদন করা হয়,যা বাড়ি থেকেই বিক্রি করা হয়।
তাদের ছেলে রেজাউল করিম জানান,সলঙ্গা বাজারে তাদের একটি তেলের দোকান রয়েছে।কাঠের ঘানিতে ভাঙ্গানো সরিষার তেলের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও এর গুণগত মানের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে এর চাহিদা রয়েছে।
স্থানীয় তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার (অব:)  জানান,বনবাড়িয়া গ্রাম তো বটেই,আশপাশের এলাকাতেও এখন আর কাঠের ঘানি নেই।তাই ঐতিহ্যবাহী এই পেশা টিকিয়ে রাখতে আব্দুল আজিজ প্রামাণিকের প্রচেষ্টা এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত।পরিবারের সদস্যরাও ভবিষ্যতে এই বংশীয় পেশা ধরে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।