রাজশাহীতে তেলের জন্য হাহাকার | Daily Chandni Bazar রাজশাহীতে তেলের জন্য হাহাকার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬ ০২:০৩
রাজশাহীতে তেলের জন্য হাহাকার
মোঃ ফয়সাল আলম, রাজশাহী

রাজশাহীতে তেলের জন্য হাহাকার


রাজশাহীতে তেলের জন্য চলছে হাহাকার। কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও সীমিত বিক্রি, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারচালকরা।

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; সরকারের এমন আশ্বাসের মধ্যেই বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। যতো দিন যাচ্ছে পাম্পগুলোর সামনে তেলের জন্য অপেক্ষামান যানবাহনের সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছে।

রোববার (২৯ মার্চ) রাজশাহী মহানগরী ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহে অস্বাভাবিকতা এবং ভোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা মিলিয়ে এক ধরনের অঘোষিত সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাবিব ফিলিং স্টেশনে দুপুরের দিকে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল দুই সারিতে প্রায় এক কিলোমিটার।
এখানে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেয়া হচ্ছে না। লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকা সজীব আল মাসুদ বলেন, কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাইক ঠেলে এখানে আসতে হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে এলাকার একটি পাম্পে, যেখানে সীমিত পরিমাণ অকটেন বিক্রি হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা।
আবার কিছু ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ, কেবল ডিজেল মিলছে। গাড়ি বা মোটরসাইকেলের ভিড় নেই। অলস বসে থাকা কর্মচারীরা জানান, ঈদের আগেই পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে গেছে। বাস ডিজেল নিচ্ছে।
তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান আমির হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী, যিনি নগরী থেকে শুরু করে আমচত্ত্বর হয়ে নওহাটা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাননি। অবশেষে ফিরে আসেন হাবিব ফিলিং স্টেশনে। কিন্তু প্রচণ্ড ভিড় সেখানে।
গাড়ি-মোটরসাইকেলওয়ালাদের লম্বা লাইন রয়েছে পাম্পটির সামনে। স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, যারা আসছেন সবাইকে তেল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মুখে অনেক কথাই বলা যায়-বাস্তবে মেলানো অনেক কঠিন। তেলের প্রকট সংকটে আমাদেরকে নানা রকমের কু-রুচিপূর্ণ ভাষা হজম করতে হচ্ছে। এখানে ১২০ টাকা দরেই তেল বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নওহাটার রুচিতা, ভুগরইল নওদাপাড়ার গাফ্ফারের পেট্রোল পাম্প ঈদের পরে কোন ধরনের তেল বিক্রি করেনি। রোববার  পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলছেন। পাম্পে পাম্পে ঘুরে তেল না পেয়ে এক শিক্ষক বলেন, সরকার এক কথা বলছে, পাম্প মালিকরা আরেক কথা বলছে। এর পেছনে মজুতদারির বিষয় থাকতে পারে। মজুতদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।  তেল নেই স্টিকার ঝুলিয়ে রেখে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই।