মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে আবিদুর রহমান সোহেল-এর নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা উপলক্ষে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়। তিনি দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি, বরং এখন সেই আদেশ বাতিলের প্রস্তাব করছে।”
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি একই আদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন মেনে সরকার গঠন করলেও গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করছে। তার ভাষ্য, প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রত্যাখ্যান করেছে, অথচ এখন দলটি গণভোট বাতিলের উদ্যোগ নিচ্ছে।
বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং অভিযোগ দিলেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনি এলাকাকে যেন “আরেকটি মাগুরা” বানানোর চেষ্টা না করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিএনপি স্বৈরাচারী আচরণ প্রদর্শন করছে এবং ভোট ছাড়াই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। এ সময় আরও বক্তব্য দেন শাহাবুদ্দিন, নজরুল ইসলাম, গোলাম রব্বানী এবং আব্দুল হক সরকার।
সভায় প্রার্থীর ১৪ দফা ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পাঠ করেন সৈয়দ আব্দুল আজিজ।