বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আবু ফজল মো. সানাউল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোট কারচুপি বা কোনো ধরনের ‘দুই নম্বরি’ করার চিন্তাও যেন কেউ না করে। এমন কোনো চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বগুড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিল্যান্স টিম, অবজারভেশন ইউনিট এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন এবার অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ভোটের দিন কিংবা তার আগে-পরে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অবহেলা করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করে তিনি বলেন, “এটি ছোট নির্বাচন নয়; কমিশনের কাছে প্রতিটি ভোটই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উপনির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
অতীতের কিছু বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের অসতর্কতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি ছোট ভুলও পুরো নির্বাচনকে বিতর্কে ফেলতে পারে—তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় অবৈধ ও হারানো অস্ত্রের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জানান, বর্তমানে চার শতাধিক পিস্তল নিখোঁজ রয়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এসব অস্ত্র যেন কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান-এর সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ছয়জন করা হবে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র আনসার সদস্য ও ১০ জন নিরস্ত্র আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের আগে ও পরে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে।