বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে তীব্র আবাসন সংকটের মধ্যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত হলে ছাত্রদের বদলে শুকর পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একাধিক হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দখলে থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে পাওয়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজের শের-ই-বাংলা হল বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হলের ভেতরে শুকর পালন করা হচ্ছে এবং এটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা সেখানে বসবাস করতে পারছেন না।
অন্যদিকে, আখতার আলী মান হল ও শহীদ তিতুমীর হল ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হলে কলেজের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। দিনের বেলায় শিশুদের খেলাধুলা এবং রাতে বসবাসের কারণে হলগুলো কার্যত আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
জানা যায়, এই তিনটি হলে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থীই সেখানে থাকতে পারছেন না। ফলে অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বাইরে হোটেল ও মেসে উচ্চ ভাড়া দিয়ে বসবাস করছেন।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে পড়তে আসি। হলে থাকার সুযোগ না পেয়ে বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। দ্রুত হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দিতে হবে।”
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হলগুলো দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য চালুর দাবি থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে আবাসন সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে হলগুলো সংস্কার ও দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সূত্রঃ Independent Television Web