বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সম্ভাব্য প্রকল্প প্রণয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর একটি প্রতিনিধি দল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা পরিদর্শন করেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সামসুল হকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান, ড. এ্যানিসা এনাম, ড. শেখ মো. মাসরুর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আমিন আল নূর।
প্রতিনিধি দলটি বগুড়ায় এসে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনানী থেকে মাটিডালি সড়ক পরিদর্শন করে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বগুড়ার পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক জানান, বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এই পরিদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে বনানী-মাটিডালি (এন-৫১৪) মহাসড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু, প্রধান সড়ক ও প্রবেশপথে ল্যান্ডস্কেপিং, ট্রাফিক আইল্যান্ড নির্মাণ, অপ্রয়োজনীয় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং জোন স্থাপন।
প্রতিমন্ত্রী গত ২৯ মার্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১ এপ্রিল সওজ বগুড়ার পক্ষ থেকে বুয়েটের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত শহর বগুড়া বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র যানজট নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে বনানী-মাটিডালি সড়কের পিটিআই মোড় থেকে দত্তবাড়ি পর্যন্ত অংশে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের কারণে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, এ সড়কে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিংসহ সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন মডেল নিয়ে স্টাডি করে একটি কার্যকর প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।