রাজশাহীতে উচ্চশব্দে বাইক চালানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ | Daily Chandni Bazar রাজশাহীতে উচ্চশব্দে বাইক চালানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:২৪
রাজশাহীতে উচ্চশব্দে বাইক চালানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭
মোঃ ফয়সাল আলম, রাজশাহী

রাজশাহীতে উচ্চশব্দে বাইক চালানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় গভীর রাতে উচ্চশব্দে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও একদল তরুণের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলাকারীদের ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রিমা থানার কৈচুয়াতৈল এলাকার বাসিন্দা শাহীন-এর ছেলে অনিক কেষ্টগঞ্জ বাজার এলাকায় অতিরিক্ত শব্দ করে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাধা দেন এবং উচ্চশব্দ করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

এর কিছুক্ষণ পর অনিক তার সহযোগী রেদওয়ান, নাহিদসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে স্থানীয় সাব্বির ও সোহেলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অনিক ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, এতে মোটরসাইকেলগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত অনিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

সংঘর্ষের ঘটনায় অনিকের দুই সহযোগীসহ স্থানীয় ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন- কেষ্টগঞ্জ এলাকার  মো. কামাল উদ্দিন (৬০), মো. মুস্তাকিম হোসেন (৪০), রাজা আলম (২২), জাহিদ হোসেন (২৩) এবং সিয়াম হোসেন (২০)।

অন্যদিকে আহত অনিকের সহযোগীরা হলেন- শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকার রেদওয়ান (২২) এবং চন্দ্রিমা থানার হাজির মোড় এলাকার নাহিদ হোসেন (২৬)।

মারামারির খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং পুড়ে যাওয়া ৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে পুলিশ অনিকের আহত দুই সহযোগীকে আটক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে অনিকের আহত দুই সহযোগী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে রেদওয়ান থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্ত অনিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।