প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০২:১৩
সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টসে
বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠিত
সঞ্জু রায়:
সাংস্কৃতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেরোভ একাডেমী অব ফাইন আর্টস ঢাকার আয়োজনে শনিবার দিনব্যাপী প্রতিবছরের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে “বৈশাখী শিশু উৎসব ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার উৎসবের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত বয়সভেদে ৩টি গ্রুপে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে একাডেমির দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আর শনিবার দ্বিতীয় দিনে সারাদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিকেলে উৎসবমুখর পরিবেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ম্যাজিক শো ও সকল অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র এবং পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপনী ঘটে।
শিশুদের প্রাণবন্ত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী আলিয়া সুলতানা লীনা লাইছ, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও হাঙ্গেরিতে বসবাস ও কর্মরত রয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানের শিল্পচর্চার ভিত্তি গড়ে তুলতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রশান্ত কুমার বর্মন এবং পরিচালক সৈয়দ বজলুল হাসান। তারা তাদের বক্তব্যে একাডেমির দীর্ঘ পথচলা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্ষুদে শিল্পীদের মাধ্যমে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ শিশুদের সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক চেতনাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রথম পর্বে শিশুদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সম্মিলিত সঙ্গীত, আবৃত্তি, দলীয় ও একক নৃত্যের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। উল্লেখযোগ্য পরিবেশনাগুলোর মধ্যে ছিল “এসো হে বৈশাখ”, “আজব দেশের ধন্য রাজা” এবং “ধন ধান্য পুষ্প ভরা”। এছাড়া খুদে নৃত্যশিল্পীরা পরিবেশন করে “আয় তবে সহচরী, হাতে হাতে ধরি ধরি” এবং একক নৃত্য “বৈশাখের বিকেল বেলা” ও “নেশা লাগিল রে” গানে। দ্বিতীয় পর্বে দেশের নন্দিত যাদুশিল্পী শাহীন শাহ তার আকর্ষণীয় ম্যাজিক শো উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সকল অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান এবং বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম স্বনামধন্য এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছর একাডেমিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসকেন্দ্রিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিল্প প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উৎসব, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আয়োজকরা।