ক্ষেতলালে শালিশের মারামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী | Daily Chandni Bazar ক্ষেতলালে শালিশের মারামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২৬ ০০:৫৬
ক্ষেতলালে শালিশের মারামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী
উপজেলা সংবাদদাতা, ক্ষেতলাল, জয়পুরহাটঃ

ক্ষেতলালে শালিশের মারামারি থেকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাদী

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হন্তনাবাদ গ্রামে দুই নারীর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন পাল্টাপাল্টি মামলা ও তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মারামারির মামলার পর এবার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক।

জানা গেছে, উপজেলার হন্তনাবাদ গ্রামের মোজাম্মেল হকের স্ত্রী স্বামীর পরকীয়া সন্দেহে ও প্রতিবেশী আজিজুল হকের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য গ্রাম্য শালিশ বসান আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজিউল হক শাবলু।

অভিযোগ রয়েছে, শালিশ শেষে মোজাম্মেল হকের ভগ্নিপতি উসকানিমূলক মন্তব্য করলে আজিজুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোজাম্মেলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে নাভির নিচে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে সুস্থ হয়ে গত ১৭ জানুয়ারি জয়পুরহাট আমলী আদালত-৪ এ মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় হন্তনাবাদ গ্রামের জুয়েল শেখ (২০), মোকারম শেখ (৫০), রাব্বি হাসান শেখ (২০), সিদ্দিক শেখ (৬০), আইজুল শেখ (৪০), রহিম শেখ (৩৮), সায়না ও আলমকে।

এরপর গত ২৭ জানুয়ারি আজিজুল হকের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে।

মোজাম্মেল হকের অভিযোগ,  ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবাকে কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত । সেই মোতাবেক গত ১০ মার্চ  তিনি বিবাদীকে নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠালেও পরে তার জবানবন্দি গ্রহণ না করে একতরফাভাবে বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে গত শনিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা হন্তনাবাদ গ্রামে গিয়ে প্রতিবেশী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, নারী দুইজনের ঝগড়া ও পরবর্তীতে শালিশের ঘটনায় মারামারির বিষয়টি জানা থাকলেও শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা তারা শোনেননি।

আলেয়া খাতুনের প্রতিবেশী শাকিলা, দেলোয়ার হোসেন ও রেজাউল কাজী বলেন, আমাদের বাড়ি পাশাপাশি। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই জানতে পারতাম। আমাদের জানামতে এমন কিছু ঘটেনি। তবে মারামারির মামলার জের ধরে হয়তো এ মামলা হয়েছে।

আজিজুল হক বলেন, শালিশ শেষে মারামারির ঘটনা ঘটে কিন্তু তাকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়নি। মোজাম্মেল দৌড়ে পালানোর সময় পরিত্যক্ত  টিউবওয়েলের ধাক্কা লেগে আহত হয়েছে।

এঘটনায় আলেয়া খাতুন বলেন, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। আমি একাধিকবার নিষেধ ও করেছি। তার স্ত্রী আমাকে নিয়ে সন্দেহ করত। আমার সামনে এসে বিভিন্ন গালিগালাজ করত। আমি সহ্য করেছি। মারামারি ঘটনার দুই দিন আগে মোজাম্মেলের স্ত্রী  আমার বাড়ির উঠানে এসে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। গ্রামের লোকজন জরো হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। যে কারণে আমার মানসম্মান নষ্ট হয়। শালিশে আমি সঠিক বিচার না পেয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

 

আলমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজিউল হক শাবলু বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সমাধান সম্ভব হয়নি। এখন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

 

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মামলা তদন্তে সব সময় বিবাদীর জবানবন্দি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।