বগুড়ায় স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার, ৪০ বছরের দখলমুক্ত করল প্রশাসন | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার, ৪০ বছরের দখলমুক্ত করল প্রশাসন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ ০১:০৩
বগুড়ায় স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার, ৪০ বছরের দখলমুক্ত করল প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি উদ্ধার, ৪০ বছরের দখলমুক্ত করল প্রশাসন

বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতক জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র বিদ্যালয়ের জমি দখল করে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ব্যবহার করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম–এর নজরে আনা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলকারীদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন। তার দখলেই প্রায় ২০ শতক জমি ছিল বলে জানা গেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করেছে।

শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের অবৈধ দখলকৃত জায়গা উদ্ধারে আমরা বহু জায়গায় ধরনা দিয়েও নিরাশ হয়েছিলাম। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।”

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ ছিল। একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছে। বিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করে পুনরায় স্কুলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রশংসার দাবিদার।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হকসহ অভিযুক্ত দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসে। তদন্ত শেষে দখলের প্রমাণ পাওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল।”