রংপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন | Daily Chandni Bazar রংপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ ০১:৩৩
রংপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

রংপুর নগরীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর সাতমাথা পূর্ব খাসবাগ এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল আহাদ খান মিঠুর সঙ্গে পাশের বাড়ির এক তরুণীর প্রায় তিন বছর আগে গোপনে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুক এবং স্ত্রীর নামে থাকা জমি স্বামীর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগীর বাবা মো. সুলতান মিয়া কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ে মোছা. শিখা আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১০ মে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন শিখা আক্তার।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তাকে স্বামীর বাড়িতে নেওয়া হয়। তবে সেখানে আবারও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টার দিকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে শিখা আক্তারকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের ওপর মরিচ মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে আহত করার অভিযোগও করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা তুলে না নিলে তাকে বাড়িতে না রাখার এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিখা আক্তারের স্বামী মো. আহাদ আলী মিঠু, দেবর তানভির, শ্বশুর জহুরুল ইসলাম খান এবং শাশুড়ি খুকি বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, বিয়ের বিষয়টি তারা জানতেন না এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।