প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাসাতো কান্দা বৈঠক. ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি | Daily Chandni Bazar প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাসাতো কান্দা বৈঠক. ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০২৬ ০০:১১
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাসাতো কান্দা বৈঠক. ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাসাতো কান্দা বৈঠক. ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটির অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে এ পরিমাণ অর্থায়নের কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ঘোষণা দেন সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ বৈঠকের পর এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) হিসাবে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের (৫০০ কোটি) এ ঋণ টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ৬১ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।
এডিবি প্রেসিডেন্টের দুই দিনের ঢাকা সফরকালে চার প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও হয়েছে।
রোববার তার উপস্থিতিতে রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।
পরদিন সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। এসময় তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন বলে এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে বলা হয়, বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে (২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল) বাংলাদেশের উন্নয়নে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা গুরুত্ব পায়।
এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, “বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এডিবি বাংলাদেশকে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে, প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস উন্মোচন করতে এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে; যা আরও ভালো কর্মসংস্থান ও বিস্তৃত সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি প্রেসিডেন্টের সফরের সময় ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে সৃষ্ট অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সংস্থার সহায়তা আরও ২৫ কোটি ডলার বাড়ানো হয়েছে। এ সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এদিকে দেশে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও চাপের মধ্যে আছে। এডিবি সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবে এবং জ্বালানি ও রপ্তানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি আগামী পাঁচ বছরে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ এর আওতায় ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সফরকালে মাসাতো কান্দা এ উদ্যোগ উপস্থাপন করেন। এর লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ সমপ্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
“পাঁচ বছরের এই সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে এবং এটি বাংলাদেশে এডিবির বর্ধিত বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি তহবিলের সঙ্গে কৌশলগতভাবে সংযুক্ত করা হবে।”
এডিবি বলছে, বাংলাদেশের জন্য তাদের বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতির পরিমাণ মধ্যমেয়াদে ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে, যা প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এ বাড়তি অর্থায়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোকে সহায়তা করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, শক্তিশালী সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া সহজ করা।
এছাড়া এডিবি বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা দেবে, যাতে দেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুত ও বাস্তবায়নে সহায়তা করা যায় এবং সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে এডিবির আসন্ন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস) সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসাতো কান্দা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। আলোচনায় বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন এবং সরকারের প্রবৃদ্ধি ও সহনশীলতা বৃদ্ধির অগ্রাধিকারে এডিবির সহায়তা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এডিবি প্রেসিডেন্ট বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন, যেখানে বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বেসরকারি খাতে পুঁজি সরবরাহে এডিবি সরকারের সঙ্গে কাজ করছে; যার মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত করা এবং সহ-অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।