বগুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে টনসিল অপারেশনের জন্য ভর্তি হওয়া গৃহবধূ শাপলা বেগম (৩৫)-এর মৃত্যুকে ঘিরে চিকিৎসা অবহেলা, মামলার এজাহার পরিবর্তন এবং আর্থিক সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিহত শাপলা বেগম গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের হিয়াতকুল নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী রানু মণ্ডল বগুড়া সদর থানায় মামলার বাদী।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুন দুপুরে টনসিলের চিকিৎসার জন্য শাপলা বেগমকে বগুড়া শহরের বাদুরতলা এলাকার সারা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, অপারেশনের আগে তাকে অজ্ঞান করা হলেও পরে আর জ্ঞান ফেরেনি। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।
নিহতের স্বামী রানু মণ্ডল বলেন, “আমার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অজ্ঞান করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকেরা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।”
ঘটনার পর উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সময় অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞসহ দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের নাম না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। এজাহারে হাসপাতালের মার্কেটিং কর্মকর্তা, পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মচারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একজন স্বজন বলেন, “যাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল, তিনি মামলায় নেই—এটা কীভাবে সম্ভব?”
পরিবার ও স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে এজাহার পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, অপারেশন রেকর্ড ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “চিকিৎসা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের পর জটিলতা হতে পারে, তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের নথি, অপারেশন রেকর্ড ও ময়নাতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটারের সব নথি ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করলেই শাপলা বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।