অসুস্থতা নিয়ে মানবিক জীবণ কাটছে ৮ সন্তানের পরিবার,দেবর কর্তৃক মারধরের অভিযোগ | Daily Chandni Bazar অসুস্থতা নিয়ে মানবিক জীবণ কাটছে ৮ সন্তানের পরিবার,দেবর কর্তৃক মারধরের অভিযোগ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ জুন, ২০২৬ ০১:৪৫
অসুস্থতা নিয়ে মানবিক জীবণ কাটছে ৮ সন্তানের পরিবার,দেবর কর্তৃক মারধরের অভিযোগ
রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

অসুস্থতা নিয়ে মানবিক জীবণ কাটছে ৮ সন্তানের পরিবার,দেবর কর্তৃক মারধরের অভিযোগ

জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল জলিল শেখ। ফলে অসুস্থ স্বামী ও আট সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সামলাতে চরম সংকটে পড়েছেন স্ত্রী নারগিস বেগম।
 
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দাথিয়া বেনিমাথব এলাকার বাসিন্দা নারগিস বেগম জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে আব্দুল জলিল শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ছয় মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বয়স ১৫ বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ৯ মাস।
 
দিনমজুরির আয়ে এতদিন কোনোমতে সংসার চললেও কয়েক মাস আগে আব্দুল জলিল পাইলস রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা করানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং তিনি কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন। এতে পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
 
নারগিস বেগম বলেন, স্বামী কাজ করতে পারছেন না, চিকিৎসার টাকাও নেই। সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারি না। অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের বাঁচার কোনো উপায় নেই।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের সংকট আরও গভীর হয়েছে। মানবিক সহায়তা পেলে পরিবারটি বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।
 
এদিকে নারগিস বেগম অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার দেবর মো. ইব্রাহিম খলিল ও তার সহযোগীরা তার ষষ্ঠ কন্যাসন্তানকে মারধর করেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে তাকে, তার স্বামী ও সন্তানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
 
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
স্বামীর চিকিৎসা, আট সন্তানের ভরণপোষণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন নারগিস বেগম। তাঁর আশা, মানবিক সহায়তা পেলে স্বামীর চিকিৎসা করিয়ে পরিবারটিকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন।