খানজাহান আলীর দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত | Daily Chandni Bazar খানজাহান আলীর দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৪ জুন, ২০২৬ ০০:০৯
খানজাহান আলীর দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

খানজাহান আলীর দীঘির কুমির সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

হযরত খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর সেখানে থাকা একমাত্র মাদ্রাজি কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে কুমিরটিকে সাময়িকভাবে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র-এ স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হবে।

ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে খানজাহান আলীর দীঘিতে ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরের বংশধরেরা বসবাস করে আসছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের প্রজননক্ষমতা কমে যায়।

পরে ২০০৫ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশকে ছয়টি মিঠাপানির মাদ্রাজি কুমির উপহার দেয়। সেগুলো দীঘিতে অবমুক্ত করার পর স্থানীয় কুমিরগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকটি কুমির মারা যায় এবং কিছু আহত হয়। আহত দুটি ঐতিহ্যবাহী কুমিরকে চিকিৎসার জন্য সুন্দরবনের প্রজনন কেন্দ্রে নেওয়া হলেও পরে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সময়ের ব্যবধানে অন্য কুমিরগুলোর মৃত্যুর পর বর্তমানে দীঘিতে একটি মাত্র মাদ্রাজি কুমির অবশিষ্ট রয়েছে।

মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম বলেন, “কুমিরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কুমিরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।”

এদিকে খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে কুমিরটি নিরাপদে ধরার ও স্থানান্তরের কারিগরি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফাতেমা আক্তার (৮) নামে এক শিশু মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নামলে কুমিরটি তাকে আক্রমণ করে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ভোরে দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে দীঘির পূর্ব পাড়ে তাকে দাফন করা হয়।

এই ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কুমির স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।