রংপুর প্রেস ক্লাবে প্রতিবন্ধীর আমরণ অনশন, সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ | Daily Chandni Bazar রংপুর প্রেস ক্লাবে প্রতিবন্ধীর আমরণ অনশন, সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৬ জুন, ২০২৬ ০০:৫০
রংপুর প্রেস ক্লাবে প্রতিবন্ধীর আমরণ অনশন, সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ
জালাল উদ্দিন, রংপুর ঃ

রংপুর প্রেস ক্লাবে প্রতিবন্ধীর আমরণ অনশন, সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

রংপুরে সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার বিচার দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন প্রতিবন্ধী মিহির কুমার হালদার। শুক্রবার সকাল থেকে তিনি রংপুর প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি শুরু করেন।

মিহির কুমার হালদারের অভিযোগ, রংপুর নগরীর দক্ষিণ কামাল কাছনা এলাকায় তার ২০ শতক জমির ওপর থাকা বাড়িতে তিনি একাই বসবাস করতেন। এই সুযোগে বাহাদুর নামের এক ব্যক্তি তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রথমে বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তার স্ত্রীসহ সেখানে অবস্থান শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সম্পত্তি আত্মসাতের প্রক্রিয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জোরপূর্বক ৬ শতক জমি লিখে নেওয়া হয় এবং ওই জমি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকে থাকা টাকাও চেকের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মিহির। পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মিহির কুমার হালদার বলেন, “আমার নিজ বাড়িতেই আমাকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। খাবারের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের টাকা ও মোটরসাইকেলও দখল করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয় এবং কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই তিনি আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন।

তার অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী এবং স্থানীয় নাগরিকরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট বলেন, মিহির কুমার হালদার একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছিলেন। তার অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত বাহাদুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিহির হালদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি থানায় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি কোনো ধরনের সম্পত্তি দখল বা হুমকির অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন।