মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এক ষাটোর্ধ্ব ভিক্ষুক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া চেইনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভিক্ষুক শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরবর্তীতে একইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা দুই মূল অভিযুক্তকে ষাইটঘর বাজার এলাকায় আটকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে চুরির মালামাল কেনার অপরাধে এক স্বর্ণব্যবসায়ীকেও আটক করে পুলিশ।
এর আগে গত ৩০ মে দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ তেওতা এলাকায় সাহায্যের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে ষাটোর্ধ্ব ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে যায়, ভুক্তভোগী বৃদ্ধা পেশায় একজন ভিক্ষুক। গত ৩০ মে দুপুরে তিনি স্থানীয় একটি বাজারে ভিক্ষা করছিলেন। এ সময় আশরাফুল (২৬) ও রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭) তার কাছে এসে জানায়, রবিনের মা তাকে কিছু দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডাকছেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি একটি ইজিবাইকে করে তাদের সঙ্গে রওনা দেন। পরে দক্ষিণ তেওতা এলাকার তৈয়বের বাঁশঝাড়ের কাছে পৌঁছালে ওই দুই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক বাঁশবাগানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্ষণের সময় আশরাফুল কৌশলে ভুক্তভোগীর গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ১৪ আনা ওজনের একটি রুপার চেইন চুরি করে নেয়। ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার স্বজনদের জানানোর পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গত শুক্রবার বিকেলে ষাইটঘর বাজার এলাকা থেকে আশরাফুল ও রবিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা চুরি হওয়া রুপার চেইন তেওতা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পালের (৪৫) কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিতাই চন্দ্র পালকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে রুপার চেইনটি উদ্ধার করে।
শিবালয় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় শিবালয় থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের পাঠানো হয়েছে।