জয়পুরহাটে বিজিবির বিরুদ্ধে দুই পরিবহন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে প্রধান সড়ক অবরোধ | Daily Chandni Bazar জয়পুরহাটে বিজিবির বিরুদ্ধে দুই পরিবহন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে প্রধান সড়ক অবরোধ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৬ ০০:৪৪
জয়পুরহাটে বিজিবির বিরুদ্ধে দুই পরিবহন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে প্রধান সড়ক অবরোধ
মোঃ মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল, জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে বিজিবির বিরুদ্ধে দুই  পরিবহন  শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে প্রধান সড়ক অবরোধ

জয়পুরহাটে বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে শ্যামলী পরিবহনের চালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের অভিযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা শহরের পাঁচুর মোড় ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবরোধের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়, আবার কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে কিংবা বিকল্প যানবাহনের সহায়তা নেন।

বাসশ্রমিকদের দাবি, আজ সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিল শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস। এটি ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা এলাকায় পৌঁছালে বিজিবির গাড়িকে সাইড দেওয়া নিয়ে বিরোধ হয়। পরে বাসটি থামিয়ে চালক হাসান আলী ও তাঁর সহকারী সাদ্দাম হোসেনকে মারধর করেন বিজিবির কয়েকজন সদস্য। পাশাপাশি বাসের কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হয়ে তাঁরা যানজটে দুর্ভোগে পোহান। এ সময় যানবাহনের চালক ও অবরোধকারীদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন অসংখ্য পথচারী।

অটো চার্জার চালক হেলাল জানান, পাঁচুর মোড় ও বাস টার্মিনাল এলাকায় বাস ও সিএনজি আড়াআড়িভাবে রেখে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে প্রধান সড়কে রিকশা চলাচলও বন্ধ ছিল।
শহরের নতুন হাটের বাসিন্দা ইমরান জানান , বাসশ্রমিকেরা চাইলে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে পারতেন। কিন্তু সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহনশ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর আজ বেলা দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা শিপলু বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিজিবি-২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারীি জানান , ‘বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। আমাদের গাড়ি এর পেছনে ছিল। একাধিকবার সাইড চাইলেও চালক সাড়া দেননি। পরে জয়পুরহাট শহরের কাছে বাসটি থামিয়ে কাগজপত্র নেওয়া হয়। চালক ও সহকারীকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়, বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে জানিয়ে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহনাজ বেগম জানান , ‘বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। বাসের কাগজপত্র থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’