বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় চালকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমঝোতা হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে রেখে চালকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, বগুড়া থেকে নন্দীগ্রাম এবং নাটোরের সিংড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের নামে চালকপ্রতি মাসিক ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। পুলিশের নিয়োগ করা কিছু ব্যক্তি এ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন তারা।
চালকদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ না দিলে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, যানবাহন জব্দ, মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অবরোধের খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সমঝোতার ভিত্তিতে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ৬ জুন মহাসড়কে চলাচলকারী একটি সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু চালক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেন।”
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।