নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন দিন ধরে বন্ধ বহির্বিভাগ, ভোগান্তিতে রোগীরা | Daily Chandni Bazar নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন দিন ধরে বন্ধ বহির্বিভাগ, ভোগান্তিতে রোগীরা | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬ ০০:৪৬
নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন দিন ধরে বন্ধ বহির্বিভাগ, ভোগান্তিতে রোগীরা
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ

নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন দিন ধরে বন্ধ বহির্বিভাগ, ভোগান্তিতে রোগীরা

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বহির্বিভাগের (আউটডোর) চিকিৎসাসেবা। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের (ইনডোর) সেবা চালু থাকলেও বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বহির্বিভাগ কবে চালু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করা হোক।

সোমবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেকেই চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চিকিৎসা নিতে আসা আলতাব আলী বলেন, “কার সঙ্গে কার ঝামেলা হয়েছে তা জানি না। কিন্তু আমরা তো চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কাহালু উপজেলার দেবখন্দ গ্রামের ১২ বছর বয়সী এক শিশু বিষপান করলে স্বজনরা তাকে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সে সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন ডা. আতিক শাহরিয়ার। রোগীর চিকিৎসা নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নিলে চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

ডা. আতিক শাহরিয়ার বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই চিকিৎসা শুরু করা হয়। স্টমাক ওয়াশের প্রস্তুতির জন্য কর্মীদের ডাকা হয়েছিল। কিছুটা সময় লাগায় রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন।”

তবে রোগীর স্বজনদের দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক রোগীকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করেননি। বারবার অনুরোধের পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শনিবার থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল বলেন, “চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। তবে জরুরি ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।”

ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এস এম নূর-ই-শাদীদ বলেন, “চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

সূত্র: সমকাল