বগুড়ায় ৩০০ মণ বীজ আলু নষ্ট, গবেষণা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ৩০০ মণ বীজ আলু নষ্ট, গবেষণা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৬ ০০:৫৬
বগুড়ায় ৩০০ মণ বীজ আলু নষ্ট, গবেষণা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় ৩০০ মণ বীজ আলু নষ্ট, গবেষণা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে জেলা প্রশাসন

বগুড়ার সেউজগাড়ী এলাকায় অবস্থিত কন্দাল ফসল গবেষণা উপকেন্দ্রে শত শত মণ সরকারি বীজ আলু নষ্ট হয়ে পচে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ড. মো. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গবেষণা উপকেন্দ্রে সংরক্ষিত আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ মণ সরকারি বীজ আলু যথাযথ সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পরে দায় এড়াতে সেগুলো গোপনে মাটিতে পচিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গবেষণা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি গোবর সেডের পাশে বিপুল পরিমাণ আলুর স্তূপ পড়ে রয়েছে। কিছু আলু ভালো থাকলেও অধিকাংশ আলু পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় আলুগুলো নষ্ট হয়েছে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারীরা বলেন, ড. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন।
তাদের দাবি, গবেষণা উপকেন্দ্রে উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সর্বশেষ সরকারি বীজ আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনাও চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, উপকেন্দ্রের এক অসুস্থ শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে প্রধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, শ্রমিক আমির উদ্দিন কর্মরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র থেকে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘদিন তার পরিবারকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমির উদ্দিনের ছেলে মো. মাসুম মিয়া বলেন, “আমার বাবার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বারবার চাইলেও সেই টাকা পাইনি। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে কিছু টাকা দেওয়া হয়, তবে এখনও পুরো টাকা বুঝে পাইনি।”
অন্যদিকে, গবেষণা কেন্দ্রের অফিস প্রাঙ্গণে থাকা সরকারি পুকুর বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মাছ চাষের মাধ্যমে সম্ভাব্য সরকারি রাজস্ব আয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত আবেদন বুধবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, “সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হয়। অতীতেও তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ড. মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “আলুগুলো নষ্ট করা হয়নি। এগুলো জৈব সার তৈরির জন্য পচানো হচ্ছে।” তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ড. তৌফিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে গাজীপুরে অবস্থিত কন্দাল ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রতন মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন মোল্লা বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, সরকারি সম্পদ নষ্ট ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।