ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপন | Daily Chandni Bazar ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ ২২:৩৪
ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপন
সঞ্জু রায়:

ঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে 
রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপন

প্রতিবছরের ন্যায় বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে ঢাকায় উদযাপিত হয়েছে রাশিয়ার জাতীয় দিবস। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের এই আয়োজনে বাংলাদেশের সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংসদ প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সাবেক সোভিয়েত ও রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশে রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে রয়েছে গভীর আত্মিক বন্ধন। কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা, শিল্প উন্নয়ন, শিক্ষা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মস্কো সফর দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগামী অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর, যা রাশিয়ার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপকে দুই দেশের সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিন বলেন, বহু বছরের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে অর্জিত এ সাফল্যের মাধ্যমে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে রুশ সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে রাশিয়ার সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্র থেকে আগত ‘আলাবুগা’ লোকসংগীত ও নৃত্যদল পরিবেশন করে মনোমুগ্ধকর সংগীত ও নৃত্য। লোকজ ও আধুনিক গানের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনার মাধ্যমে তারা রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জাতিগোষ্ঠী তাতারদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অতিথিদের সামনে তুলে ধরে। আমন্ত্রিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।