যৌক্তিক কারণ ছাড়াই গত তিন বছরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আলু চাষি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তাদের দাবি, কৃষকের উৎপাদিত আলুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার বিকেল ৫টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় গঠিত আলু চাষি ও অংশীজনদের সংগঠন ‘ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি’। সংগঠনের সভাপতি ছামিউল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের প্রায় ৪২টি জেলায় আলুর চাষ হয়। এর মধ্যে বগুড়া, মুন্সিগঞ্জ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রাজশাহী আলু উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এসব এলাকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়, যা কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সংগঠনের দাবি, চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আলু একটি পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের বিকল্প নেই। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হিমাগার মালিকরা দফায় দফায় সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৬৫ কেজি ওজনের এক বস্তা আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ২৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩০০ টাকায় পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালে প্রতি কেজি সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়, ফলে ৬৫ কেজির একটি বস্তা সংরক্ষণে ভাড়া দাঁড়ায় ৫২০ টাকা। যদিও আন্দোলনের মুখে কিছু এলাকায় এ ভাড়া ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এর আওতায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ২ মার্চ প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করেছিল, যা ৫০ কেজি ওজনের বস্তা বিবেচনায় করা হয়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ কৃষক ৬৫ কেজি ওজনের বস্তায় আলু সংরক্ষণ করেন। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, আলু উৎপাদনে প্রতি কেজিতে প্রায় ১৩ টাকা ব্যয় হয়। এর সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিক ও বস্তার খরচ যোগ করলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৮ টাকা। হিমাগার ভাড়া যুক্ত হলে প্রতি কেজি আলুর মোট খরচ প্রায় ২৫ টাকায় পৌঁছে যায়। অথচ কৃষক অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ অবস্থায় ‘ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি’ হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া প্রতি কেজি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।