শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ | Daily Chandni Bazar শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬ ০২:১৯
শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ

শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পুত্রবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

নিহত স্বর্ণা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় শাশুড়ি ও ননদ জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় স্বর্ণা আক্তার (গৃহবধূ) নামে এক নারীর হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নের সি-কেওয়াবুনিয়া বাজারে মানববন্ধন করেন নিহত স্বর্ণার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, শাশুড়ি মুনজুমা বেগম ও ননদ জামাই সৌরভের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানার কারণে স্বর্ণা আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

নিহতের মা রিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে বলেছিল, এখানে তার ভালো লাগে না। সে আরও জানিয়েছিল শাশুড়ি ও ননদ জামাইয়ের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক আছে। এরপরই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার মেয়েকে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিহতের বাবা কাঠমিস্ত্রি কামাল হাওলাদার বলেন, “অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন বলেন, “পরিবারটি খুবই অসহায়। নিহত মেয়েটি শান্ত স্বভাবের ছিল। যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১০ জুন) স্বামীবাড়ি পশুরীবুনিয়া এলাকা থেকে স্বর্ণা আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর নিহতের স্বামী রাকিবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শাশুড়ি মুনজুমা বেগম ও ননদ জামাই সৌরভ পলাতক রয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”