দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, লন্ডন থেকে অন্য একটি দেশে যাওয়ার পথে ট্রানজিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ইন্টারপোলের ডাটাবেজে যাচাই করে তার বিরুদ্ধে থাকা রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্ক্যানিংয়ের সময় এআই প্রযুক্তিতে তার মুখমণ্ডল শনাক্ত হয়। এরপর ইন্টারপোলের ডাটাবেজে মিল পাওয়ার পর দুবাই পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ, ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে জানিয়েছে যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালে তার ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে আদালতের নির্দেশে তার ও পরিবারের নামে থাকা বিপুল সম্পদের একটি অংশ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়।
দুদকের মামলায় অভিযোগ রয়েছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।