বদলির একমাস পরও বহাল তবিয়তে প্রধান সহকারী, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ | Daily Chandni Bazar বদলির একমাস পরও বহাল তবিয়তে প্রধান সহকারী, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬ ০০:৪৭
বদলির একমাস পরও বহাল তবিয়তে প্রধান সহকারী, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ
আল-মামুনঃ

বদলির একমাস পরও বহাল তবিয়তে প্রধান সহকারী, বগুড়ার  শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলির আদেশ জারির এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামান নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের অভ্যন্তরে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দুই কর্মচারীকে বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটির স্মারক নম্বর স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/৩য় শ্রেণী-৩৯/২৬/১৮-১৯/১(১৩)।
 
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী শাহিন ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ধুনটের শূন্য প্রধান সহকারী পদ থেকে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়ন করা হয়। একই আদেশে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামানকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী পদে বদলি করা হয়।
 
তবে অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশ জারির এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এস এম কামরুজ্জামান এখনো শজিমেক হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট পদে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি প্রাপ্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া আদেশের ক্রমিক নম্বর-১ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার মূল পদে ফিরে যেতে বাধ্য থাকবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান সহকারী এস এম কামরুজ্জামান মন্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। 
 
 
অপরদিকে শজিমেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়নপ্রাপ্ত শাহিন ইসলাম বলেন, ২০২০ সালেও আমার এই পদে পদায়ন হয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে তখন আমাকে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি এবং চরম হেনস্তা করা হয়েছিল। এবারও বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মকর্তার ধুনটে রিলিজ নিয়ে চলে যাওয়ার কথা এবং তা না হলে অটো রিলিজ হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে এখনো তা কার্যকর হচ্ছে না, যার ফলে আমি আমার নতুন পদে যোগদান করতে পারছি না। আমার সাথে আবারও আগের মতোই হেনস্তার পাঁয়তারা চলছে
 
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম নুরুল ইরফান এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি একটি অফিসিয়াল বিষয়। এ বিষয়ে ডেপুটি জেনারেলের সঙ্গে কথা বললে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে,তার সাথে কথা বলুন।”
 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শজিমেক হাসপাতালের (ডিডি) ডা. মনজুর মোর্শেদ  বলেন, “গত ১৪ মে, ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উচ্চমান সহকারী শাহীন এবং সহকারী প্রধান এসএম কামরুজ্জামানের একটি বদলি আদেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু সেই আদেশটি আসার পরেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
​বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং সেখানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
​আমরা তদন্ত কমিটির সেই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। একই সাথে এ বিষয়ে করণীয় জানতে চেয়ে ফোনের মাধ্যমেও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। যেহেতু বদলি আদেশের পর এই অনিয়মগুলো চিহ্নিত হয়েছে, তাই আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ বা নির্দেশনা কী হবে, তা জানতে চেয়েছি। বর্তমানে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি, সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সেই আলোকেই পরবর্তী চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
 
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার ঘটনায় প্রশাসনিক বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।