এক বছর না যেতেই নদীগর্ভে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকার কাজ | Daily Chandni Bazar এক বছর না যেতেই নদীগর্ভে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকার কাজ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৬ ২৩:৫৭
এক বছর না যেতেই নদীগর্ভে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকার কাজ
গঙ্গাচড়া, রংপুর সংবাদদাতাঃ

এক বছর না যেতেই নদীগর্ভে এলজিইডির ১৪ লাখ টাকার কাজ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বছর ভাঙনরোধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে যে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করেছিল, তা এক বছরের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে প্রায় ২৫ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়ার পর তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধের পশ্চিমাংশে ভাঙন শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মহিপুর তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

জানা গেছে, গত বছর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর এলজিইডি বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করে। তবে সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে ভাঙনস্থলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কারণে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের অন্তত তিনটি গ্রামের হাজারো পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা মেনানাফ, কাইয়ুম ও বায়েজিদ বলেন, “বছরের প্রথম বন্যাতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”

ব্যবসায়ী শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

কৃষক খোরশেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হবে। এলজিইডি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “বাঁশের পাইলিং নির্মাণের সময়ই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম এটি টিকবে না। সরকারের ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও প্রথম পানির চাপেই পাইলিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, “ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “আমরা উপজেলা প্রকৌশলীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”