বগুড়ায় ফরম পূরণের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ১০ শিক্ষার্থী | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ফরম পূরণের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ১০ শিক্ষার্থী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ জুলাই, ২০২৬ ০০:১৯
বগুড়ায় ফরম পূরণের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ১০ শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় ফরম পূরণের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারল না ১০ শিক্ষার্থী

ফরম পূরণের নামে টাকা নেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী। কলেজের এক খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মী মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ওই ১০ শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে অংশ নিতে পারেননি। এ ঘটনায় তারা ও তাদের অভিভাবকরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনটি বিভাগে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারা মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৪ জুন অন্য শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিতরণ করা হলেও ওই ১০ শিক্ষার্থীকে তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাওন তাদের জানান, দেরিতে ফরম পূরণ করায় প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড আসতে কিছুটা সময় লাগবে। পরে ৩০ জুন ও ১ জুলাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ১ জুলাই রাত থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সম্রাট সরকার বলেন, “শাওন নিজেকে কলেজের স্টাফ পরিচয় দিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেবেন। সেই বিশ্বাসে আমরা টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবেশপত্রই পেলাম না। এতে আমাদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে গেল।”

আরেক শিক্ষার্থী মো. হাসর বলেন, “ফরম পূরণের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আমি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তখন শাওন নিজেই সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে। এমনকি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অবস্থানের ভিডিও পাঠিয়েও আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিল। এখন তার ফোন বন্ধ।”

এ বিষয়ে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান বলেন, “বুধবার বিকেলে দুই শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। কলেজে সব ধরনের ফি ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। ফরম পূরণের জন্যও নির্ধারিত কমিটি রয়েছে। হাতে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন শাওন খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দুই দিন আগে বিষয়টি জানাত, তাহলে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সমাধানের চেষ্টা করা যেত। তবে শেষ মুহূর্তে জানানোয় আর কিছু করার সুযোগ ছিল না।”

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।