কলেজের ভুলে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারলেন না সুমাইয়া, কান্নায় ভেঙে ফিরলেন কেন্দ্র থেকে | Daily Chandni Bazar কলেজের ভুলে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারলেন না সুমাইয়া, কান্নায় ভেঙে ফিরলেন কেন্দ্র থেকে | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৩ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৫
কলেজের ভুলে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারলেন না সুমাইয়া, কান্নায় ভেঙে ফিরলেন কেন্দ্র থেকে
সারিয়াকান্দি, বগুড়া সংবাদদাতা

কলেজের ভুলে এইচএসসি পরীক্ষায় বসতে পারলেন না সুমাইয়া, কান্নায় ভেঙে ফিরলেন কেন্দ্র থেকে

কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুলের কারণে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশপত্রের অভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

সুমাইয়া আক্তার উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ওবাইদুল হক বাবুর মেয়ে। তিনি চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ সুমাইয়ার কাছ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডে তথ্য পাঠানোর সময় তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলভাবে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে তার প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি।

বিষয়টি জানতে পেরে সুমাইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সারিয়াকান্দি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষা দিতে গেলে প্রবেশপত্র না থাকায় কর্তব্যরত কর্মকর্তারা তাকে পরীক্ষার হলে প্রবেশের অনুমতি দেননি।

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমার বাবা নেই। আমার ভাই অনেক কষ্ট করে আমার লেখাপড়ার খরচ চালান। অনেক স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু কলেজের একটি ভুলে আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এখন আমি কী করব, বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় বাসিন্দা সুলতানা পারভীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হলে শিক্ষা বোর্ড বা প্রশাসনের উদ্যোগে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। সুমাইয়ার ক্ষেত্রেও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।