১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী | Daily Chandni Bazar ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩৯
১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
জালাল উদ্দিন, রংপুর ঃ

১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি বলেছেন, আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুরসহ দেশের প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। উপকারভোগী নির্বাচন হবে নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে এবং তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য পরিবারগুলোকে এ কার্ড দেওয়া হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মিলনায়তনে রংপুর বিভাগের সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন দুর্নীতির সঙ্গে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কারণ জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে এবং সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতে হয়। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অতীতের দুর্নীতির ঘটনাগুলোও সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্ত করছে।

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত পরিবারগুলোর নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিকাংশ আর্থিক সহায়তা এখন সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমেছে এবং সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রদেয় অর্থও সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে যাবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ প্রতিবন্ধী। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের পুনর্বাসন ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৪৫টি মোবাইল থেরাপি ইউনিট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া দেশে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিওভুক্ত। সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার সেলাই, কম্পিউটার, প্লাম্বিং, মোবাইল ফোন মেরামত, হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিনাসুদে ঋণও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তর, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।