দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলায় আহত জামায়াত নেতা ৯ দিন পর মারা গেলেন | Daily Chandni Bazar দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলায় আহত জামায়াত নেতা ৯ দিন পর মারা গেলেন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৬ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৭
দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলায় আহত জামায়াত নেতা ৯ দিন পর মারা গেলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ: হামলায় আহত জামায়াত নেতা ৯ দিন পর মারা গেলেন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় আগে দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সম্রাট হোসেন বাপ্পা দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি এবং উপজেলার ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা রফিক আকন্দের সঙ্গে তার ছোট ভাই আব্দুল করিম আকন্দের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৫ জুন দুপুরে আলোহালী গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে মাপজোক করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় আব্দুল করিম আকন্দ ও তার সহযোগীরা লোহার রড, চাপাতি, কোদাল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পা মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। হামলায় তার মা জোসনা বেগম (৬২) ও বাবা রফিক আকন্দও আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সম্রাটের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ারকুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেন।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান বলেন, প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়; পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, সম্রাট হোসেন বাপ্পার হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে জানাজা শেষে দুপচাঁচিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল করিম আকন্দের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তিনি বলেন, "শুনেছি ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে। দল কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না।"