সব বাধা পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন সুমাইয়া, কলেজের গাফিলতিতে বঞ্চনার পর ফিরল স্বস্তি | Daily Chandni Bazar সব বাধা পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন সুমাইয়া, কলেজের গাফিলতিতে বঞ্চনার পর ফিরল স্বস্তি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৬ জুলাই, ২০২৬ ০০:৫৪
সব বাধা পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন সুমাইয়া, কলেজের গাফিলতিতে বঞ্চনার পর ফিরল স্বস্তি
সারিয়াকান্দি, বগুড়া সংবাদদাতা

সব বাধা পেরিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন সুমাইয়া, কলেজের গাফিলতিতে বঞ্চনার পর ফিরল স্বস্তি

কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রবেশপত্র না পেয়ে কেন্দ্রে গিয়েও ফিরতে হয়েছিল বগুড়ার সারিয়াকান্দির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারকে। তবে সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) নতুন প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন সুমাইয়া। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বিশেষ ব্যবস্থায় প্রস্তুত করা নতুন প্রবেশপত্র তার হাতে তুলে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও হতাশার পর প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই শিক্ষার্থী।

সুমাইয়া আক্তার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পিতৃহীন এই শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের জন্য কষ্টার্জিত সাড়ে তিন হাজার টাকা কলেজে জমা দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। ফলে গত ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েও অংশ নিতে পারেননি তিনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন প্রবেশপত্র ইস্যু করে। এর ফলে শনিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে সুমাইয়া বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর আমার বড় ভাই অনেক কষ্ট করে আমার লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার প্রথম দিন প্রবেশপত্র না থাকায় কেন্দ্র থেকে ফিরে আসতে হওয়ায় আমাদের পরিবারের সব স্বপ্ন যেন ভেঙে পড়েছিল। সরকার, শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও জানান, প্রথম দিনের মিস হওয়া বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষাটিও দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসন তাকে আশ্বস্ত করেছে।

এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের যাদের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”