‘সমালোচনায় অসন্তুষ্ট নই, একদিন মানুষ ভালো দিকগুলোও খুঁজে নেবে’—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম | Daily Chandni Bazar ‘সমালোচনায় অসন্তুষ্ট নই, একদিন মানুষ ভালো দিকগুলোও খুঁজে নেবে’—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৫
‘সমালোচনায় অসন্তুষ্ট নই, একদিন মানুষ ভালো দিকগুলোও খুঁজে নেবে’—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সমালোচনায় অসন্তুষ্ট নই, একদিন মানুষ ভালো দিকগুলোও খুঁজে নেবে’—প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে নিয়ে কিছু অযাচিত সমালোচনা হচ্ছে। তবে এসব সমালোচনায় তিনি অসন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, অসত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে অনেক সময় তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনঃক্ষুণ্ন হন। সমালোচনার কারণে সারা দেশে নিজের পরিচিতি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ একদিন তাঁর ভালো দিকগুলোও খুঁজে নেবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ এবং পরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের আগেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ সময় তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি সাংবাদিকতাও করেছেন এবং শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘তারেক রহমানের বন্ধু বলে কিছু কিছু মিডিয়ায় আসে। তারেক রহমানের জন্ম বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমার জন্ম বেড়ে ওঠা বগুড়ার শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে ৯৩-৯৪ সালের আগে সাক্ষাৎই হয়নি। কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু আমি নই। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী। বগুড়া বাড়ি হওয়ার কারণে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয় সাক্ষাৎ হয়। তিনি আমাকে স্নেহ করেন, বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন। তাঁর সঙ্গে আমার বয়সেরও বড় তারতম্য রয়েছে।’

নিজের সাংবাদিকতা জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক সময় সাংবাদিক ছিলাম। শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম প্রায় পাঁচ বছর। পরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পেশা থেকে রিজাইন দিয়েছি। কোনো এক সময়ের সহকর্মী হিসেবে আপনাদের সহযোগিতা চাইতেই পারি।’

সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনাতে আমি খুব একটা অসন্তুষ্ট না। কারণ অনেকেই আমাকে চিনত না। আলোচনা ও সমালোচনার কারণে দেশবাসী আমাকে চিনেছে। আশা করি, তারা দেরিতে হলেও ভালো দিকগুলো খুঁজে নেবে।’

সাংবাদিকদের নামে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্য–মিথ্যা যোগ করে হাইপ তুলে কিছু নিউজ করা হয়। আমরা মাঝে মধ্যে হেয় প্রতিপন্ন হই। কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। রাজনীতি করতে গেলে সমালোচনা হবেই। কিন্তু পরিবার আত্মীয়স্বজন নিতে পারে না। অনেক নির্যাতন, কারাবাস মোকাবিলা করে আমাকে রাজনীতি করতে হয়েছে। এই সুন্দর হাতটিতে একাধিকবার হ্যান্ডকাফ উঠেছে। জেলে রাখা হয়েছে পকেটমার, চোর ডাকাতদের সঙ্গে। সে কারণে আত্মীয়স্বজনরা অনেক সময় মিথ্যা নিউজ সহ্য করতে পারে না।’

নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে খুব স্বচ্ছন্দে কাজ করছি। কারণ, আমার মন্ত্রী হচ্ছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে আমাকে ডাকেন। আমরা এক সঙ্গে পরিচালনা করছি। আর আমার নিরাপত্তার জায়গাটা হচ্ছে, ফাইল স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ জায়গা হচ্ছে মন্ত্রী। আমার নিরাপত্তা, দেওয়ালটা তো এখানে আছে। আমার ফাইল তো তাঁর কাছে যায়। যদি কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকলে তিনি তো দেখবেন। এই দিক থেকে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’

নিজ জেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বগুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা যেখান দিয়ে ১১টি জেলার মানুষ চলাচল করে। বগুড়া যদি মেট্রোপলিটন পুলিশ হয়, বগুড়ায় যদি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হয় তা বগুড়াবাসীর জন্য আনন্দের হবে। বগুড়াবাসী যতবার সুযোগ পেয়েছে ততবার ধানের শীষকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে আমি কাজ করছি। বগুড়ার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু যেন হয় সেটাই প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন, বেশি নয়।’

পরিবারের সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে সমালোচনা হয়। আমার নিজের সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। আমি তাঁকে বুঝিয়ে পদত্যাগ করিয়েছি। কিন্তু এই নিউজ কেউ হাইলাইট করেন না। বিগত ১৭ বছর আমাদের ছেলেরা কিছু করতে পারে নাই, আমাদের পরিচয়ের কারণে। এখন যদি তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো সামাজিক সংগঠনে আসে তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করা উচিত। বিরোধী দলে থাকলে সরকারের রোষানলে পড়বে আর সরকারে আসলে সবার রোষানলে পড়বে...।’

সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে—এমন সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার পর আমার নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে। টাকার উৎস কী? ৪২ কোটি টাকায় একটি অটো রাইসমিল বিক্রি করলাম। আমার ১২-১৩টি ব্যবসা। সেখান থেকে কি আমার টাকা আসে না? সমাজের যে কোনো ব্যক্তিকে হেয়প্রতিপন্ন করার আগে তাঁর সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনেশুনে লেখা।’