ধুনটে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, শহরাবাড়ি স্পারের আরও ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন | Daily Chandni Bazar ধুনটে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, শহরাবাড়ি স্পারের আরও ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৬
ধুনটে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, শহরাবাড়ি স্পারের আরও ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
ধুনট, বগুড়া সংবাদদাতাঃ

ধুনটে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, শহরাবাড়ি স্পারের আরও ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

প্রবল স্রোতে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না। নতুন করে উপজেলার শহরাবাড়ি স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় চরম ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে যমুনা নদীর শহরাবাড়ি স্পারের সামনের অংশে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।

যমুনাপাড়ের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। নদীভাঙন ধীরে ধীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা দ্রুত স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে ভূমিসহ নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয় এবং ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। পরে ভাঙনকবলিত তীরজুড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তবে সম্প্রতি যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তে নদীর পানি তীরবর্তী এলাকায় আঘাত হানছে। এতে জিওব্যাগ দিয়ে সংরক্ষিত অংশেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বছরই যমুনার গর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার জমি ও স্থাপনা।

খবর পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অতিরিক্ত জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, “ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউবগুলো নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আশা করছি, এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।”