বগুড়ায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। গত ১৯ মাসে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচটিসি (এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং) সেন্টারে ২ হাজার ১৬৪ জনের পরীক্ষা করে ৯৩ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনাক্ত হওয়া ৯৩ জনের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। অর্থাৎ আক্রান্তদের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। একই সময়ে বগুড়া জেলার ৯২ জন এবং অন্য জেলার একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য আসছেন। এখানে বিনামূল্যে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ এবং একই সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান কারণ। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাই নিয়মিত কাউন্সেলিং ও ওষুধ সেবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা নিলে আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।