বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ‘গুলিতে’ কসাই রিপন ফকির নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলী সম্প্রতি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। আগামী ১০ আগস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার এজাহারে রিপন ফকিরকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিহতের স্ত্রী মাবিয়া বেগম ও ভাই সাক্ষ্যে জানিয়েছেন, গলায় রুটি আটকে অসুস্থ হয়ে রিপনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ওই সময় গলায় রুটি আটকে মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বগুড়া শহরের ২ নম্বর রেলগুমতি এলাকায় রিপন ফকির নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তার স্ত্রী মাবিয়া বেগম ১৭ সেপ্টেম্বর সদর থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১০৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় রিপন ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় বগুড়া ডিবি পুলিশ।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি তিনজন কর্মকর্তা তদন্ত করেন। তদন্তে ২২ জন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের একটি অংশ জানিয়েছে, রিপন ফকির গুলিতে নয়, বরং পাউরুটি খাওয়ার সময় গলায় আটকে অসুস্থ হয়ে মারা যান।
এছাড়া স্থানীয় এক চা দোকানি তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান, রিপন তার দোকান থেকে পাউরুটি কিনে খাওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, দাফনের আগে লাশ গোসল ও জানাজার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখেননি। পরে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় ১১২ দিন পর কবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনে মৃতের শরীরে কোনো ইনজুরির তথ্য উল্লেখ নেই।
এদিকে মামলার বাদী মাবিয়া বেগম ও তার দেবর পূর্বে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রিপন ফকির গুলিতে নিহত হননি। তাদের দাবি ছিল, কিছু ব্যক্তি সহায়তার কথা বলে কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বাদীর মতামত নেওয়া হবে। তিনি আপত্তি করলে আদালতে নারাজি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘শহীদ’ তালিকায় রিপন ফকিরের নাম থাকলেও পরবর্তী চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সূত্র: যুগান্তর