ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।”
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে সংসদ সচিবালয় আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া কিংবা অঙ্গহানির শিকার মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও জাতীয় সংসদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।
অন্যান্য বক্তার বক্তব্য
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো ৫ আগস্টও বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে শুরু হতে হবে। শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন নয়, মানসিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অতীতের গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।