রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, হত্যাচেষ্টা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পরিবার। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরিফুল ইসলামের মেয়ে শারমিন আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম (৫২) ও তার পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের পূর্ব মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে তার ভাই ও ভাতিজাদের বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় তিনি তার ভাই হায়দার আলী, ভাতিজা মেরাজ আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই দুপুরে পৈতৃক জমিতে জোরপূর্বক মাপজোক করতে গেলে শরিফুল ইসলাম বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী নাজমিন বেগম ও মেয়ে শারমিন আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এ সময় শারমিন আক্তারের কানে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় আনা ওজনের স্বর্ণের ঝুমকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরে তারা গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, একই দিন বিকেলে গঙ্গাচড়া বাজারের জিগারতলা এলাকায় ওষুধ কিনতে গেলে নাজমিন বেগমের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই ঘটনায় শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় তাদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের দাবি, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর গঙ্গাচড়া মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, থানায় এজাহার দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা করার পর অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাক্ষী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হুমকি-ধমকি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, "ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার কথা ছিল। পরে শরিফুল ইসলাম আর যোগাযোগ করেননি। তিনি মামলা করতে চাইলে এখনো করতে পারেন।"