প্রকাশিত : ৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৪
বগুড়ায় ৪'শ একর জায়গায় স্থাপিত হচ্ছে
বিসিক শিল্প পার্ক- বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী
শিল্পের বিকাশে ঋণে সুদের হার কমানো ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার
সঞ্জু রায়:
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই জেলায় প্রায় ৪০০ একর জায়গাজুড়ে একটি বিসিক শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি শীত মৌসুমেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে। শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের হোটেল মম-ইনের অডিটোরিয়ামে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতকে প্রতিযোগিতামূলক করতে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের বিকল্প নেই। ডাবল ডিজিট সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প কিংবা ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে সফল করা কঠিন। এজন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থায়নের ব্যয় কমানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সহজলভ্য করার পাশাপাশি অর্থায়নের খরচ কমাতে কাজ চলছে। বিসিক শিল্প পার্কে যারা শিল্প স্থাপন করবেন, তাদের জন্য সরকারের ক্রেডিট হোলসেলিং স্কিমের আওতায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু শিল্প পার্ক নির্মাণ করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে না। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ, সম্ভাবনাময় শিল্পখাত সম্পর্কে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন। এ সময় বগুড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বগুড়া শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক ও আবেগের জায়গা থেকেও দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। জাতীয় প্রয়োজনেই বগুড়ার উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। যারা জাতীয়তাবাদী আদর্শ বিশ্বাস করেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন সেই কোটি জনতার আবেগের স্থান হচ্ছে বগুড়া। তাই বগুড়াকে ঘিরে যে উন্নয়নের বৈষম্য বিগত দিনে সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া হবে।
অভিষেক অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় নয় বরং জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই বগুড়ার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ, প্রশস্তকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও সেতুর জরুরি সংস্কার, প্রকল্প তদারকি এবং মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত করার লক্ষ্যেই উদ্বোধন করা হয়েছে সড়ক জোন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘ ২০ বছরের যে উন্নয়নশূন্যতা এই জেলায় রয়েছে শুধুমাত্র তা পূরণের লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বগুড়াকে গোপালগঞ্জের সাথে কেন তুলনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার ভৌগোলিক গুরুত্ব ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিজেরই অনন্য গুরুত্ব রয়েছে। আমরা কখনোই বগুড়াকে গোপালগঞ্জ বানাতে চাই না। তবে অবশ্যই সমতার উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। যত সমালোচনায় হোক বগুড়ার উন্নয়নে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না মর্মেও জানান তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বগুড়া কি ঘিরে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন দ্রুততম সময়ে বগুড়াতে ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা শুরু করবে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই আন্তর্জাতিক না হলেও অভ্যন্তরীণরুটে বিমান চলাচলের লক্ষ্যে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বগুড়ায় ২য় যমুনা সেতু, বগুড়া- সিরাজগঞ্জ রেলপথ, শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন গুলোর উপর দিয়ে আধুনিক ওভারপাস নির্মাণ, বগুড়া নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ছয় লেনে রূপান্তর, বগুড়া থেকে নাটোর সড়কটিকে চার লেনে রূপান্তরসহ একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। তিনি বলেন, সারাদেশে সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। তবে বগুড়া যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জেলা তাই বগুড়াকে ঘিরে যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিলেই একটি গোষ্ঠী আলোচনা সমালোচনা শুরু করে দিচ্ছেন। তবে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে সকল বাঁধা পেরিয়ে সামনের দিকে তারা অগ্রসর হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অভিষেক অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়ার সংসদ সদস্যবৃন্দ যথাক্রমে রেজাউল করিম বাদশা, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোশারফ হোসেন, মোরশেদ মিল্টন এবং আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিসিবি পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানী, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বগুড়ার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর নব-নির্বাচিত সহ-সভাপতি এ্যাড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, পরিচালক পরিমল চন্দ্র দাসসহ অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতা ও শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।