শিশু হত্যা মামলায় জামিনে এসে আবার খুন করে সেই নারী | Daily Chandni Bazar শিশু হত্যা মামলায় জামিনে এসে আবার খুন করে সেই নারী | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০১
শিশু হত্যা মামলায় জামিনে এসে আবার খুন করে সেই নারী
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

শিশু হত্যা মামলায় জামিনে এসে আবার খুন করে সেই নারী

 কুমিল্লার দেবিদ্বারে গৃহবধূ ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার পাঁচ বছর আগের একটি শিশু হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউস থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন অংশ পলিথিনের নয়টি প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। এ ঘটনার বিচার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মরদেহের বিভিন্ন অংশের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের বয়স ৫৫ বছর। তিনি ওই বাড়ির মালিক এবং দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে একটি জাহাজে কর্মরত বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, ফরিদা হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের নভেম্বরে দেবিদ্বারে সাত বছর বয়সী ফাহিমা নামে এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় লাইলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে তারা জামিনে মুক্তি পান।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার ফরিদা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের নামও তিনি জানিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর দেবিদ্বারে পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার পর একটি খালে পুঁতে রাখার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সাত দিন পর খাল থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

র‌্যাবের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের পর শিশুটির বাবা আমির হোসেন, তার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ থাকা লাইলী আক্তার, রবিউল আউয়াল, রেজাউল ইসলাম ইমন ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তকালে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে রাখার অভিযোগে আবারও লাইলী আক্তারসহ ওই মামলার কয়েকজন আসামির নাম সামনে এসেছে। এ ঘটনায় লাইলীকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালের শিশু ফাহিমা হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় ১২ দিন আগে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের প্রতি লোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।