সালমান শাহ হত্যা: ১২ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য আদালতে, কারাগারে ডন | Daily Chandni Bazar সালমান শাহ হত্যা: ১২ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য আদালতে, কারাগারে ডন | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০০:০৯
সালমান শাহ হত্যা: ১২ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য আদালতে, কারাগারে ডন
নিজস্ব প্রতিবেদক

সালমান শাহ হত্যা: ১২ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য আদালতে, কারাগারে ডন

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মামলার এজাহারনামীয় আট নম্বর আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আদালতে হাজির করে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডনের জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ডন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তাকে আর আইনের আওতায় আনা কঠিন হতে পারে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও দাবি করেন, মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার চুক্তির কথা উঠে এসেছে। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো আদালতে বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আবারও আত্মগোপন করতে পারেন এবং এতে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব যুক্তিতে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করে সিআইডি।

ডনের পক্ষে এদিন কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। শুনানি শেষে আদালত সিআইডির আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটবার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এরই মধ্যে আটবার পিছিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিনও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত আগামী ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লিও ওরফে লুসি, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ

তদন্তের অংশ হিসেবে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়েছিল তদন্ত সংস্থা। পরে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।

তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যেভাবে হত্যা মামলায় গড়ায়

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করে তদন্তের আবেদন করেন।

১৯৯৭ সালে সিআইডি দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। বাদীপক্ষ ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে রিভিশন আবেদন করে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হক ও আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সালমান শাহর মৃত্যুর সময় তার শরীরে আঘাতের বিভিন্ন চিহ্ন ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এখন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ৩০ আগস্ট। এর আগে আশরাফুল হক ডনের গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় দীর্ঘদিনের এই মামলার তদন্তে নতুন করে গতি আসবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।