প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১৩
বগুড়ার ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল, ২১ শিক্ষক থাকলেও পাস করেনি একজনও
নিজস্ব প্রতিবেদক
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার ৮টি দাখিল মাদ্রাসাসহ ১টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের রুমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফরাত জেরিন এসএসসির ফলাফল ঘোষণার পর বগুড়ার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা গেছে।
বগুড়া শিক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, গাবতলী উপজেলার কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসা, শিবগঞ্জ উপজেলার বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসা, ধাড়িয়া গাংগইট দাখিল মাদ্রাসা, দুদাহার রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা, শেরপুরের কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, মধ্যভাগ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজ, সোনাতলার তেকানী চুকাইনগর পিএম দাখিল মাদ্রাসা এবং ধুনটের রাঙ্গামাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উত্তীর্ণ না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি শিবগঞ্জের বালা বত্রিশ দাখিল মাদ্রাসার সুপার জুয়েলুর রহমান বলেন, তার প্রতিষ্ঠান থেকে এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের প্রতিষ্ঠান নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত ছিল, এটি খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ হতে পারে।
আর গাবতলীর কামারচট্ট বাঠাতন নেছা আলিম মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জলিল বলেন, তার ৫০ বছরের কর্মজীবনে এ বছর ছিলো সবচেয়ে দুর্বল ব্যাচ। অনেক চেষ্টা করেও তারা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করাতে পারেননি। তারা এক বা দুইটি বিষয়ে আটকে যাওয়ায় পাস করতে পারেনি। মাদ্রাসায় ২১ জন শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও কীভাবে এমন ফল হলো, সেটি তারাও বুঝতে পারছেন না।
অন্যদিকে ধুনটের হাজী কাজেম জোবেদা টেকনিক্যাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, এবার সাতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কতজন পাস করেছে বা ফেল করেছে, তিনি এখনও জানতে পারেননি। কলেজ ভবনের ঢালাই কাজ চলায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদ্রাসাগুলোতে বর্তমানে শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নানা কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসামুখী করা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা আক্তার বলেন, জেলার ৯টি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে বের করা হবে। ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে কিনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন কিনা, সেগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।